জাতীয় বৃক্ষ আমগাছ (৬.১১)

ষষ্ঠ শ্রেণি (মাধ্যমিক) - বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - খ. নির্মিতি | NCTB BOOK
3.1k
Summary

ভূমিকা
আম বাংলাদেশের একটি সুপরিচিত এবং জনপ্রিয় ফল। আমগাছ আমাদের সংস্কৃতিতে বিশেষ স্থান দখল করে এবং এটি বাংলাদেশের জাতীয় গাছ।

পরিচয়
আমগাছ চিরসবুজ, বড় এবং ছাতার আকার ধারণ করে। এটি প্রায় ২০ মিটার উঁচু হয় এবং ১০০ বছরের বেশি বাঁচতে পারে। গাছটি সাধারণত চার-পাঁচ বছর পর ফল দিতে শুরু করে এবং খুব বেশি যত্নের প্রয়োজন হয় না।

আমগাছের চাষ
বাংলাদেশে প্রাচীনকাল থেকে আমগাছের চাষ হচ্ছে। উত্পাদনে বিভিন্ন জাত অন্তর্ভুক্ত, যেমন ফজলি, ল্যাঙড়া, আম্রপালি। মুকুল ফাল্গুন-চৈত্র মাসে আসে এবং বৈশাখে আম হতে শুরু করে।

উপকারিতা
আমগাছের কাঠ, পাতা ও মূল সবই কাজে লাগে। আমগাছের পাতা গবাদিপশুর খাদ্য, কাঠ ঘর নির্মাণে ব্যবহার হয় এবং ছায়া শীতল। এটি জাতীয় অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

আম গবেষণা কেন্দ্র
রাজশাহী অঞ্চলে আমের ফলন ভালো হয়। একটি আম গবেষণা ইনস্টিটিউট আছে যেখানে উন্নতমানের আমগাছের চারা উৎপাদন ও গবেষণা চলছে।

উপসংহার
আমগাছ বাংলাদেশের জন্য অপরিহার্য। খাদ্য চাহিদা, কাঠের যোগান ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এর গুরুত্ব রয়েছে। আমগাছের চাষ ও পরিচর্যা করা উচিত।

ভূমিকা

আম বাংলাদেশের একটি সুপরিচিত ও জনপ্রিয় ফল। বাংলাদেশের সব জায়গাতেই আমগাছ দেখতে পাওয়া যায়। আমগাছ আমাদের শুধু ফল দেয় না, এর প্রতিটি অংশ আমাদের কাজে লাগে। বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে আমগাছ বিশেষ স্থান দখল করে আছে। আমগাছকে বাংলাদেশের জাতীয় গাছের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।

পরিচয়

আমগাছ চিরসবুজ বৃক্ষের অন্তর্গত একটি গাছ। এ-গাছ খুব বড় হয়। এর শাখাপ্রশাখা বিস্তৃত এবং পাতা খুব ঘন। শাখা-প্রশাখা বিস্তৃত হয়ে আমগাছ ছাতার আকার ধারণ করে। এ-গাছের ছায়ায় বসলে প্রাণ জুড়িয়ে যায়। আমগাছ প্রায় ২০ মিটার পর্যন্ত উঁচু ও ৩০ মিটার প্রশস্ত হতে পারে। আমগাছ দীর্ঘায়ু হয়। একটি আমগাছ একশো বছরের বেশি বেঁচে থাকতে পারে। সাধারণত গাছ লাগানোর চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে ফল দেওয়া শুরু করে। আমগাছের খুব বেশি যত্নের দরকার হয় না। যেকোনো জায়গাতেই এটি জন্মাতে পারে।

আমগাছের চাষ

বাংলাদেশে প্রাচীনকাল থেকে আমগাছের চাষ হচ্ছে। গ্রামেগঞ্জে এমন কোনো বাড়ি পাওয়া যাবে না, যেখানে অন্তত একটি আমগাছ নেই। সাধারণত আমের আঁটি থেকে আমগাছ জন্ম নেয়। তবে এ-গাছ থেকে ফল পেতে চার-পাঁচ বছর সময় লেগে যায়। গাছও অনেক বড় হয়। বর্তমানে আমগাছের ডাল থেকে কলম তৈরি করে চাষ হচ্ছে। এ-গাছ আকারে ছোট হয় এবং ফলন হয় তাড়াতাড়ি। বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে কলম আমগাছের চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশে অনেক ধরনের আমগাছ রয়েছে। একেক জাতের আমগাছের আকার-আকৃতি একেক রকম। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ফজলি, ল্যাঙড়া, আম্রপালি, খিরশা, গোপালভোগ, কিশানভোগ ইত্যাদি। ফজলি আমের গাছ খুব বড় হয়, অনেকটা বটগাছের মতো ঝুপড়ি হয়ে থাকে। আমগাছে ফাল্গুন-চৈত্র মাসে মুকুল আসে। তখন চারপাশ মুকুলের গন্ধে ভরপুর হয়ে যায়। বৈশাখ মাসের শুরুতে মুকুল থেকে আম হতে শুরু করে। জ্যৈষ্ঠ মাসে আম পাকে। এক জাতের আম পাকতে পাকতে আষাঢ় মাস চলে আসে। একে আষাঢ়ি আম বলে।

উপকারিতা

আমগাছ শুধু আমাদের ফলই দেয় না, এর কাঠ, পাতা, মূল সবই আমাদের কাজে লাগে। আমগাছের পাতা গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আমগাছের কাঠ দিয়ে ঘরের থাম, দরজা, জানালা, আসবাবপত্র, নৌকা তৈরি হয়। এর সরু ডালপালা ও পাতা শুকিয়ে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। আম-গাছের ছায়া খুবই শীতল হয়। আমগাছ আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

আম গবেষণা কেন্দ্র

বাংলাদেশের রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলে আমের ফলন সবচেয়ে ভালো হয়। রাজশাহীতে একটি আম গবেষণা ইনস্টিটিউট রয়েছে। সেখানে উন্নতমানের আমগাছের চারা উৎপাদন ও তার পরিচর্যা নিয়ে গবেষণা হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মাটির গুণাগুণ ও পরিবেশ অনুযায়ী কোন গাছ কোন অঞ্চলে চাষের উপযোগী, তারও গবেষণা চলছে। আমকে কীভাবে আরও উপাদেয় ও পুষ্টিগুণসম্পন্ন করা যায়, তা নিয়েও পরীক্ষানিরীক্ষা করা হচ্ছে। সব ঋতুতে আমের ফলন হবে, এমন গাছ উদ্ভাবনের চেষ্টা চলছে। ছোট আকৃতির আমগাছ উদ্ভাবনের ফলে এখন শহর বা গ্রামের আঙিনাতেও আমগাছের চাষ করা যাচ্ছে।

উপসংহার

আমগাছ বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজনীয় একটি গাছ। দেশের মানুষের খাদ্যচাহিদা মেটানো, প্রয়োজনীয় কাঠের যোগান ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এর গুরুত্ব অপরিসীম। আমাদের উচিত আরও বেশি বেশি আমগাছ লাগানো ও এর পরিচর্যা করা।

Content added By
Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...